জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষা হাবে (এডুকেশন হাব) রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা দেশের রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি মেধা, সম্পদ এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার সমন্বয়ে এই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
গতকাল রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর অন্যতম সেরা শিক্ষা কেন্দ্র। আমাদের সেই প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদ রয়েছে, মেধাবী শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রয়েছেন এবং আমাদের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি রয়েছে। এখন প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা।” তিনি মনে করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং বেসরকারি খাতের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করা সম্ভব।
দেশের শিক্ষা খাতের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে স্বল্প মেয়াদে গৃহীত উদ্যোগগুলো শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার উন্নয়নে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং একে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো শিক্ষাকে সর্বজনীন ও আন্তর্জাতিক মানের করে তোলা।
বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোকে দেশে আকৃষ্ট করার বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “একটা সময় ছিল যখন বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী ছিল। আমরা সেই গৌরবময় ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে আমরা যদি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখানে শাখা খোলার সুযোগ দিই এবং আমাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর মান বাড়াই, তবে বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম প্রধান শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হবে।”
উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষা শেষে দেশে ফিরে এসে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখেন, সেই প্রবণতা বাড়াতে হবে। দেশের ভেতরেই উন্নত গবেষণার পরিবেশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি খাতের অবদান অনস্বীকার্য। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত গ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের পরামর্শ ছাড়া কার্যকর কোনো সংস্কার সম্ভব নয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা এবং ট্রাস্টভিত্তিক পরিচালনার আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সরকার পর্যালোচনা করছে।
আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান যে, শিক্ষা খাতের সামগ্রিক আমূল পরিবর্তন এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে অঙ্গীকারবদ্ধ। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে বিশ্বমানে উন্নীত করার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ এবং সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষা খাতের উন্নয়নে মন্ত্রীর ব্যক্ত করা পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান এবং এর বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সঠিক সমন্বয় ঘটলে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।


