নেত্রকোণায় শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

নেত্রকোণায় শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

অপরাধ ডেস্ক

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও এর ফলে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে র‍্যাব-১৪-এর একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেপ্তার করে। চাঞ্চল্যকর এই মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ঘটনার আইনি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, র‍্যাবের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। দুপুরের দিকে আসামিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিকে আদালতে প্রেরণ করে আইনি কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী। গত কয়েকমাস ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে স্বজনরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও জনরোষের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আসামিকে ধরতে অভিযানে নামে।

আইনজীবীদের মতে, এই ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় দ্রুত চার্জশিট প্রদান এবং সাক্ষ্য গ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ন্যায়বিচার দ্রুত হওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ভুক্তভোগী শিশুটি যেহেতু বর্তমানে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে, তাই তার শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।

র‍্যাব-১৪-এর অধিনায়ক এই অভিযানের বিষয়ে এবং মামলার অগ্রগতির বিস্তারিত তুলে ধরতে দুপুর ১২টায় একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। সেখানে গ্রেপ্তারের সময়কার পরিস্থিতি এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য জানানো হবে। আদালত পাড়ায় আসামিকে হাজির করার সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগরকে থানা পুলিশে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শিশুটির পরিবার এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ