ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে অন্তত দুই বছর স্থিতিশীলতা প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে অন্তত দুই বছর স্থিতিশীলতা প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ‘ভঙ্গুর ও লুটপাটের’ অর্থনীতিকে পুনরায় স্বাবলম্বী করে তুলতে কমপক্ষে আরও দুই বছর সময় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিশাল ঋণের বোঝা এবং অর্থনৈতিক ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এই সময়ে জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে মাসব্যাপী আয়োজিত ইসলামী প্রতিযোগিতা ‘আলোকিত মাহে রমাদান’-এর চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে বিগত সরকারের আমলের প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি। এই বিশাল ঋণের কিস্তি হিসেবে প্রতি বছর ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের তুলনায় আমদানি ব্যয় অনেক বেশি। এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি এবং বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে সচল করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ।”

মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো সংক্ষিপ্ত বা অলৌকিক পথ নেই। কঠোর পরিশ্রম এবং দেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই পুনরুদ্ধার সম্ভব। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী দুই বছর যদি দেশে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা না যায়, তবে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যারা অতীতে ভোটারবিহীনভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভাজন এবং ধর্মীয় বিভেদ তৈরি করে নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের চেষ্টা করছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা সম্পর্কে তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদে বর্তমানে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে, যা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ। এটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সংসদের বিতর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যেন রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে দেশের নাগরিকদের সজাগ থাকতে হবে।

সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশে এমন একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল যেখানে মাদরাসা ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেওয়া বা ধর্মীয় পোশাক পরিধান করাকেও সন্দেহের চোখে দেখা হতো। বর্তমান সরকার সেই ভয়ের পরিবেশ দূর করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

আলেম-ওলামাদের সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “আপনারা সমাজের অত্যন্ত প্রভাবশালী অংশ। সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে আপনারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হতে পারেন।” তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নাটক সাজিয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আমরা যারা ধর্মে বিশ্বাস করি, তারা অন্য যেকোনো ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই জনপদে হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে বসবাস করছে। কোনো অপশক্তি যেন আমাদের এই ঐতিহাসিক ঐক্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক (হাফি) এবং উত্তরা ১২ নং সেক্টর বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী। অনুষ্ঠানে বক্তারা সামাজিক অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব এবং জাতীয় উন্নয়নে নৈতিকতা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ