মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের চীন সফর শুরু: নেপথ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও নতুন বৈশ্বিক সমীকরণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের চীন সফর শুরু: নেপথ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও নতুন বৈশ্বিক সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ মে) ওয়াশিংটন থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। ১৩ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত নির্ধারিত এই সফরটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং নৌ-অবরোধের ফলে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, সংঘাতময় পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প বেইজিং সফর পিছিয়ে দিতে পারেন। তবে যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা প্রশমনের আগেই বেইজিংয়ের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘এশিয়া গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান এবং সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলাকালীন ট্রাম্পের এই সফর এবং চীনের পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনা একটি বিশেষ কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। বিশ্লেষক কুর্ট কাম্পবেলের মতে, যদিও ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বেশ ভঙ্গুর, তবুও উভয় পক্ষই কৌশলগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় আগ্রহী। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের এই বৈঠক দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে ইরান সংকট। চীন ও ইরান দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান ও সামরিক কৌশল বেইজিংয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এমতাবস্থায়, ইরান ইস্যুতে চীনকে নিরপেক্ষ রাখা অথবা বেইজিংয়ের মাধ্যমে তেহরানের ওপর কোনো বিশেষ চাপ প্রয়োগের কৌশল অবলম্বন করতে পারে হোয়াইট হাউস।

পাশাপাশি, বাণিজ্য শুল্ক, প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের নিরাপত্তা ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতভেদ রয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা নিরসনে পরাশক্তি হিসেবে এই দুই দেশের মধ্যকার আলোচনার ফলাফল বিশ্বের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প কি মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চীনের মধ্যস্থতা চাইছেন, নাকি বেইজিংকে পাশে রেখে নতুন কোনো সামরিক বা অর্থনৈতিক মেরুকরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সামগ্রিকভাবে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের আগামীর ভাগ্য নির্ধারণ এবং বিশ্ব ব্যবস্থায় নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দুই দিনে শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার রুদ্ধদ্বার বৈঠক থেকে আসা সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ