দেশিয় বাজারে স্বর্ণের বড় পতন, ভরিতে কমল ৪৩৭৪ টাকা

দেশিয় বাজারে স্বর্ণের বড় পতন, ভরিতে কমল ৪৩৭৪ টাকা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম হ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আবারও কমানো হয়েছে। দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ Light ১২১ টাকা।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই মূল্য হ্রাসের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন এই দাম গত শনিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। দেশের বাজারে আজ মঙ্গলবারও নির্ধারিত এই মূল্য তালিকায় স্বর্ণ বেচাকেনা অব্যাহত থাকবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট ছাড়াও অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও আনুপাতিক হারে কমানো হয়েছে। এর মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা হ্রাস করে নতুন মূল্য ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৯১৬ টাকা কমিয়ে নতুন বাজারমূল্য ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবারও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এক দফা কমানো হয়েছিল। সে সময় বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা তার আগের মূল্যের চেয়ে ২ হাজার ২১৫ টাকা কম ছিল। পর পর দুই দফায় স্বর্ণের মূল্য হ্রাসের ফলে ক্রেতা ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

মূল্যবান এই ধাতুর পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে এবং স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাজুস নিয়মিত এই দাম সমন্বয় করে থাকে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের সরবরাহ বৃদ্ধি অথবা বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাব দেশীয় বাজারে পড়ার কারণে এই মূল্য হ্রাস প্রক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই মূল্য হ্রাসের ফলে আসন্ন বিবাহ মৌসুম বা অলংকার ক্রয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ