অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী শেয়ার বাজার সূচক ‘ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ’ (ডিজেআইএ)-এ যুক্ত হয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেটেড। গত সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) মার্কিন বাজার খোলার পর থেকে সূচকটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যালফাবেটের অন্তর্ভুক্তি কার্যকর হয়। দীর্ঘ চার দশক ধরে সূচকটিতে থাকা টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষ জায়ান্ট ভেরিজন কমিউনিকেশনসকে বাদ দিয়ে অ্যালফাবেটকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে সূচক পরিচালনাকারী সংস্থা এসঅ্যান্ডপি ডাও জোন্স ইন্ডিসেস। এই পরিবর্তনের ফলে মার্কিন মূলধনী বাজারে প্রযুক্তি খাতের একক আধিপত্য ও রূপান্তর আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠল।
সোমবার বাণিজ্য শুরুর পরপরই ডাও জোন্সে যুক্ত হওয়ার ইতিবাচক প্রভাবে অ্যালফাবেটের ‘ক্লাস এ’ শেয়ারের দাম একলাফে ৪.৫৭ শতাংশ বেড়ে যায়। দিনশেষে নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শেয়ারের দর দাঁড়ায় ৩৪৯.৯৭ ডলারে। এর ফলে চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত অ্যালফাবেটের শেয়ারের সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে প্রায় ১১ শতাংশ, যা বৈশ্বিক মন্দা ও বাজার অস্থিতিশীলতার মধ্যেও বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শক্তিশালী অবস্থানকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে, ডাও জোন্স থেকে বাদ পড়ার ধাক্কায় বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে টেলিকম জায়ান্ট ভেরিজন। সোমবার লেনদেন শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৭.৮ শতাংশ কমে ৪২.০৩ ডলারে নেমে আসে।
১৩০ বছরেরও বেশি পুরনো ডাও জোন্স মূলত মূল্য-ভারযুক্ত (প্রাইস-ওয়েটেড) একটি সূচক। অর্থাৎ, এই সূচকে কোনো কোম্পানির প্রভাব তার মোট বাজার মূলধনের ওপর নয়, বরং একক শেয়ারের দামের ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘদিন ধরে ভেরিজনের শেয়ারের দাম তুলনামূলক কম থাকায় সূচকটিতে এর সামগ্রিক প্রভাব ছিল মাত্র ০.৫ শতাংশ। এসঅ্যান্ডপি ডাও জোন্স জানিয়েছে, আধুনিক যোগাযোগ সেবা খাত এখন আর প্রথাগত টেলিকম পরিকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবাই বর্তমান অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। ফলে ভেরিজনের পরিবর্তে উচ্চ শেয়ার মূল্যের অ্যালফাবেটকে অন্তর্ভুক্ত করায় সূচকটি মার্কিন অর্থনীতির প্রকৃত গতিপ্রকৃতি প্রতিফলনে আরও বেশি সক্ষম হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডাও জোন্সে অ্যালফাবেটের এই অন্তর্ভুক্তি বৈশ্বিক কর্পোরেট মুনাফার রূপান্তরকে নির্দেশ করে, যা ভৌত পরিকাঠামো থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের যে একচেটিয়া বিস্তার, সূচকটিতে তার প্রভাব এখন আরও প্রত্যক্ষভাবে দৃশ্যমান হবে। অ্যালফাবেটের অন্তর্ভুক্তির ফলে বিশ্বের শীর্ষ সাতটি প্রযুক্তি ব্লকের জোট—যা বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাজারে ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ নামে পরিচিত—তার পাঁচটি কোম্পানিই এখন ডাও জোন্সের সদস্য। অ্যালফাবেটের পাশাপাশি এই সূচকে আগে থেকেই রয়েছে মাইক্রোসফট, অ্যাপল, অ্যামাজন ও এনভিডিয়া।
ডাও জোন্স মাত্র ৩০টি শীর্ষস্থানীয় ব্লু-চিপ কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত হলেও, মার্কিন তথা বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বাস্থ্য ও বিনিয়োগকারীদের প্রবণতা বুঝতে বিশ্বব্যাপী এই সূচকটিকে অন্যতম প্রধান পরিমাপক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অ্যালফাবেটের মতো ট্রিলিয়ন-ডলার মূল্যের প্রযুক্তি জায়ান্টের যুক্ত হওয়া এবং ঐতিহ্যবাহী টেলিকম খাতের বিদায় বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও পুনর্গঠনে বড় প্রভাব ফেলবে। এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) এবং ইনডেক্স ফান্ডগুলো এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ভেরিজনের শেয়ার বিক্রি করে অ্যালফাবেটের শেয়ার কেনা বাড়াবে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তি খাতের মূলধন প্রবাহকে আরও ত্বরান্বিত করবে।


