হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত লেবানন ছাড়বে না ইসরায়েল

হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত লেবানন ছাড়বে না ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, লেবাননের কোনো ভূখণ্ড দখলের উদ্দেশ্য ইসরায়েলের নেই। তবে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে এক মিলিমিটারও সরবে না। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এই নীতিগত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধানের লেবানন সফরের দিনই এই মন্তব্যটি সামনে এলো।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির রূপরেখা অনুযায়ী, লেবানন সরকারকে তাদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সকল সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পথ সুগম হবে। এই লক্ষে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে সীমান্ত এলাকা থেকে বিতাড়িত করতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে দক্ষিণ সীমান্তে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনও থমথমে। গত রাতেই দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বেশ কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)। ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত তাদের সেনাদের ওপর হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক হামলার জবাবেই এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে। চলমান এই সংঘাতের মধ্যে সোমবার দক্ষিণ লেবাননে এক বিস্ফোরণে আইডিএফের এক সদস্য গুরুতর আহত হওয়ার খবরও নিশ্চিত করেছে তারা।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ জানান, একটি পরীক্ষামূলক বা ‘পাইলট’ কর্মসূচির আওতায় দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে প্রাথমিকভাবে সেনা প্রত্যাহার করা হবে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তবে এই দুটি অঞ্চলের বাইরে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো এলাকা থেকে সেনা সরানোর কোনো পরিকল্পনা ইসরায়েলের নেই। তিনি দাবি করেন, এই কৌশলগত অবস্থানটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে কাটজ ওয়াশিংটনের কৌশলগত চাপের সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বাধা না থাকলে আইডিএফ আরও আগেই লেবাননে হিজবুল্লাহর পূর্ণ পতন ঘটাতে সক্ষম হতো। পূর্বপরিকল্পিত একটি ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে হিজবুল্লাহকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার সুযোগ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, ওই সংকটের সময় হিজবুল্লাহ ইরানের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন-ইরান সামগ্রিক আলোচনার স্বার্থে লেবানন ইস্যুকে যুক্ত করায় ইসরায়েল বৈরুতে বড় ধরনের হামলা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। বিষয়টি ইসরায়েলের জন্য দুঃখজনক হলেও ওয়াশিংটন ইরানের সাথে আলোচনা এগিয়ে নিতে অত্যন্ত আগ্রহী থাকায় কৌশলগত কারণে তা মেনে নিতে হয়েছিল।

ইরানের সাথে বিদ্যমান আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, লেবানন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইরান যদি সরাসরি ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো হামলা চালায়, তবে আইডিএফ তার উপযুক্ত জবাব দেবে। এজন্য ইরানে হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসহ আইডিএফকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে এই আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন, ইসরায়েল তাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ