আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ গত সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকাজ চলার সাথে সাথে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত বুধবারের মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত ওই অঞ্চলে অন্তত ৬০৯টি আফটারশক (অনুকম্পন) রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবারও একটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, তবে এতে নতুন করে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। উপদ্রুত এলাকাগুলোতে এখনো জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পের আঘাতে দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ধসে পড়া এসব কাঠামোর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকারীরা। নিখোঁজদের সন্ধানে স্নিফার ডগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র ও চিকিৎসা শিবিরের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে একটি আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে শেষ পর্যন্ত মোট প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার বা তারও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ।
ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপদ্রুত অঞ্চলের ঘনবসতি এবং ভবনগুলোর দুর্বল নির্মাণশৈলীর কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটা প্রকট আকার ধারণ করেছে। একই সাথে ধারাবাহিক আফটারশকের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। উপদ্রুত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির সরকার দুর্গত অঞ্চলগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে।


