আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বিদায়ী বছরের শেষ দিনে রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই কম্পনটি নোডা অঞ্চলের কাছে সমুদ্রে ভূগর্ভের প্রায় ১৯.৩ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হয়েছিল। তবে প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এ ভূমিকম্পের কারণে কোনো মানবিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পটি পূর্ববর্তী বড় কম্পনের কয়েক সপ্তাহ পর এসেছে। এর আগে, দেশটির একই অঞ্চলে ৮ ডিসেম্বর ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছিলেন এবং প্রায় ৯০ হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই সময় সমুদ্র উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যেখানে হোক্কাইদো, আওমোরি ও ইওয়াতে প্রিফেকচারে ২০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, দেশটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম। দেশটিতে প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর কোথাও না কোথাও কম্পন অনুভূত হয়। বিশ্বের ৬ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই জাপানে ঘটে থাকে। ২০১১ সালের ১১ মার্চ দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই সময় সৃষ্ট বিশাল সুনামিতে উপকূলজুড়ে বিপর্যয় নেমে আসে এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিহত হন।
জাপানের ভূমিকম্প ইতিহাস ও ভূ-ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায়, দেশটি সমুদ্র উপকূলে এবং বিভিন্ন প্রিফেকচারে নিয়মিত সুনামি সতর্কতা জারি করে থাকে। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো ভূমিকম্পের পর পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রম চালিয়ে থাকে, যাতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা এবং প্রাথমিক সহায়তা কার্যক্রম দ্রুত কার্যকর করা যায়।
বর্তমান কম্পনের পরেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বড় ধরনের ক্ষতি বা হতাহতের খবর নেই। তবে সম্প্রদায়গুলো এবং স্থানীয় জনগণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, বিশেষত পূর্ববর্তী বড় ভূমিকম্পের স্মৃতি থাকার কারণে।
জাপানের ভূমিকম্প ও সুনামি গবেষকরা বলেন, এই ধরনের মধ্যমাত্রার ভূমিকম্প এলাকায় ছোট আকারের কম্পন বা ক্ষতি ঘটাতে পারে, তবে বড় সুনামি সৃষ্টি করার সম্ভাবনা কম থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এভাবে, জাপানের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থার কারণে দেশটি নিয়মিত ভূমিকম্প ও সুনামির চাপে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও বিজ্ঞানীরা নিয়মিতভাবে জনগণকে সতর্ক রাখার পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবেলার প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছেন, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমানো যায় এবং মানুষ নিরাপদে থাকতে পারেন।


