আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিউ ইয়র্ক সিটিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন জোহরান মামদানি। ৩৪ বছর বয়সী মামদানি পবিত্র কোরআন হাতে ধরে শপথ গ্রহণ করেছেন, যা নিউ ইয়র্কের মেয়র ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় শহরের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে, যা ১৯৯০-এর দশকে নির্মিত ‘সোনালী যুগের’ স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
শপথ অনুষ্ঠানে মামদানি নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার করা ২০০ বছরের পুরনো কোরআন ব্যবহার করেননি। তিনি অনুষ্ঠানের জন্য পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনটি বেছে নিয়েছেন কারণ এটি ‘নতুন যুগের সূচনার’ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি এমন একটি শহরের স্মৃতিস্তম্ভ, যা একসময় সুন্দর হওয়ার সাহস দেখাত এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবন বদলে দেয়ার মতো বড় কিছু গড়ে দিত। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা কেবল আমাদের অতীতের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এটি শুধুমাত্র সিটি হলের নীচের টানেলগুলোতে আটকা পড়া উচিত নয়, এ কারণেই এখানে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।”
মামদানি আরও উল্লেখ করেন, “লাখ লাখ নিউইয়র্কবাসীকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি।” শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরের শীর্ষ পদে প্রথম মুসলমান ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নেতার নির্বাচনের প্রতীক।
২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জোহরান মামদানি প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রিও কুওমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়ারকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হন। নির্বাচনে জয় অর্জনের মাধ্যমে তিনি কেবল প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নেতা হিসেবে নয়, ১০০ বছরের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
নিউ ইয়র্ক সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মামদানির জয় একটি নতুন রাজনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করছে। শহরের রাজনীতিতে তার নেতৃত্বের সঙ্গে সামাজিক সমন্বয়, বৈচিত্র্য ও নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নিউ ইয়র্কের প্রশাসন ও জনসেবা ক্ষেত্রে নতুন নীতি, উদ্ভাবনী প্রকল্প এবং সম্প্রদায় ভিত্তিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে মনোযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মামদানি তার শপথ অনুষ্ঠানের জায়গা নির্বাচনের ব্যাখ্যায় বলেন, “এই স্টেশন এক সময় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কেন্দ্র ছিল। এখন এটি পুনরুজ্জীবিত করে আমরা শহরের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সংযোগ প্রদর্শন করছি। আমরা চাই শহরের প্রতিটি অংশ নাগরিকদের জন্য প্রাসঙ্গিক এবং জীবন্ত হয়ে উঠুক।”
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা এ জয়কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। জোহরান মামদানির নির্বাচনী প্রচারণা ও জয় জনগণের মধ্যে বৃহত্তর অংশগ্রহণ, সামাজিক সাম্য এবং সম্প্রদায় ভিত্তিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া, মামদানি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে শহরের নগর পরিকল্পনা, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং সামাজিক সেবা পুনর্গঠনে মনোযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নেতৃত্ব শহরের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, যুবসমাজের ক্ষমতায়ন এবং বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়কে সংহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মামদানির শপথ অনুষ্ঠান ও নির্বাচনী জয়কে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্ক সিটিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন পর্যায়ে বিশ্লেষণ ও আলোচনা শুরু হয়েছে। শহরের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর নতুন প্রেক্ষাপটে তার নেতৃত্ব কিভাবে রূপ নেবে, তা দৃষ্টি আকর্ষণ করছে দেশ ও বিদেশে।


