আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে আঞ্চলিক প্রশাসন জানিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে সেখানে অগ্নিকাণ্ড ও আংশিক ধসের ঘটনা ঘটে।
বেলগোরোদ অঞ্চলের গভর্নর ভিয়াচেসলাভ গ্লাদকভ জানান, ইউক্রেন সীমান্তের উত্তরে অবস্থিত স্টারি ওস্কোল শহরের একটি আবাসিক ভবনে রাতের বেলায় ড্রোন আঘাত হানে। হামলার পর ভবনের কয়েকটি তলায় আগুন ধরে যায় এবং কাঠামোর একটি অংশ ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের পরিচয় ও বয়স সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
আঞ্চলিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হামলার সময় ভবনটিতে সাধারণ বাসিন্দারা অবস্থান করছিলেন। আহতের সংখ্যা কিংবা আশপাশের ভবনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে তদন্ত চলছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত জরুরি সেবা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।
বেলগোরোদ অঞ্চলটি ইউক্রেন সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় চলমান যুদ্ধের শুরু থেকেই এখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলমান সংঘাতে সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চলগুলোতে একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা ও পরিবহন ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও আবাসিক এলাকায় আঘাত লাগার ঘটনাও ঘটছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাত ও কৌশলগত অবকাঠামো এসব হামলার মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করা হয়। অপরদিকে ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব অভিযান চালাচ্ছে।
চলমান সংঘাতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং তীব্র শীতের মধ্যে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ায় মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে জরুরি বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিকল্প তাপের ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলার ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষই একে অপরের বেসামরিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বেসামরিক প্রাণহানি বাড়লে সংঘাতের মানবিক প্রভাব আরও গভীর হবে।
এর আগে রোববার ইউক্রেনের মধ্য-পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে একটি খনি শ্রমিকবাহী বাসে ড্রোন হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ওই ঘটনাও চলমান যুদ্ধের মধ্যে বেসামরিক মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানকে সামনে নিয়ে আসে।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড্রোন যুদ্ধের বিস্তার সীমান্তের উভয় পাশে সাধারণ মানুষের জীবন ও অবকাঠামোর জন্য বাড়তি হুমকি সৃষ্টি করছে। সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি আবারও আলোচনায় এসেছে, যদিও বর্তমানে যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।


