আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক জীবন এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতায় তাঁর নবগঠিত রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে রয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিধানসভার ২৩৪টি আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা রাজ্যটির কয়েক দশকের দ্বিমেরু কেন্দ্রিক রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতে বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়ে তাঁর দল গঠন করেন। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই এমন অভাবনীয় ফলাফল ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিজয় দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা রাজ্যের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
ভোট গণনার শুরু থেকেই বিজয় সরকার গঠনের বিষয়ে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছিলেন। গণনার বর্তমান ধারা চূড়ান্ত ফলাফলে প্রতিফলিত হলে, তিনি রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর বাইরে তৃতীয় কোনো শক্তির এমন উত্থান তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা অন্তর্ঘাত এড়াতে বিজয় অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। দলীয় প্রার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কোনো পক্ষ যাতে বিজয়ীদের প্রলুব্ধ বা প্রভাবিত করতে না পারে, সেজন্য বিশেষ তদারকি সেল গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, রাজনৈতিক এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান আজ অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি তিরুমালা মন্দিরে পূজা দিয়েছেন। তাঁর এই মন্দির ভ্রমণ এবং প্রার্থনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভক্ত ও অনুসারীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, বিজয়ের রাজনৈতিক সাফল্যের লক্ষ্যেই এই বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন। যদিও তৃষা এটিকে ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক সফর হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে রাজনৈতিক মহলে এর প্রতীকী গুরুত্ব নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে।
তামিলনাড়ুর চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। তবে বর্তমান পরিসংখ্যান বিজয়ের পক্ষেই কথা বলছে। যদি টিভিকে শেষ পর্যন্ত এই অবস্থান ধরে রাখতে পারে, তবে সেটি হবে ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের প্রভাবের এক নতুন যুগের সূচনা। থালাপতি বিজয় এখন কেবল রূপালি পর্দার নায়ক নন, বরং তামিল জনগণের ভাগ্যবিধাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশের চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর বিজয়ের দল সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে।


