আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান ও তার মিত্ররা। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অবস্থিত অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার ফলে বেশ কয়েকটি ঘাঁটি স্থায়ীভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্র এবং প্রতিরক্ষা সূত্রের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের সামরিক কৌশল ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা। বিশেষ করে উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ কেন্দ্র এবং যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গারগুলোতে নিখুঁতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলো দ্রুত প্রতিস্থাপন করা পেন্টাগনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু স্থাপনা এমন পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, মার্কিন কর্মকর্তারা সেগুলো পুনরায় সচল করার পরিবর্তে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।
আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক হিসাব এবং মাঠপর্যায়ের তথ্যে বড় ধরনের ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়েছে। পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইনপ্রণেতাদের কাছে এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয়ের কথা জানালেও, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্র দাবি করছে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কেবল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ নয়, বরং ধ্বংস হওয়া উচ্চপ্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের পেছনেও ব্যয় হবে।
হামলার শিকার হওয়া রাডার ব্যবস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা বলয়ের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। ইরানের এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী হামলার ফলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার যে আধিপত্য ছিল, তা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে।
বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে সাময়িক বিরতি চললেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত। মার্কিন প্রশাসন একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও ইরান ও তার মিত্রদের অনমনীয় অবস্থান প্রক্রিয়াটিকে জটিল করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এই অচলাবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যে ধরনের নিরাপত্তা শর্তাবলী আরোপ করতে চাইছে, তেহরান তাতে এখনো সম্মত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ব্যাপকতা এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব চ্যালেঞ্জ করার মতো সক্ষমতা ইরান অর্জন করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন এবং মিসাইল প্রযুক্তির ব্যবহার মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যূহকে বারবার ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। এই পরিস্থিতি কেবল সামরিক নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিকভাবেও ওয়াশিংটনকে নতুন করে কৌশল সাজাতে বাধ্য করছে। সংঘাতের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।


