অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক ও মজুত স্থিতিশীল রাখতে চলতি মে মাসে সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) আমদানিকৃত ১৯টি জাহাজের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪টি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। চলতি মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে আরও পাঁচটি জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, মে মাসের আমদানিকৃত মোট জ্বালানির মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৬৭ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল, ২৬ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অকটেন এবং ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন, পরিবহন খাত এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার ও বিপিসির যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত বিরতিতে এই আমদানি প্রক্রিয়া সচল রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) অধীনে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামের একটি বড় জাহাজ গত সোমবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে, যা আগামী ২৩ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে গত ৬ মে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের আরেকটি মাদার ভেসেল কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। লাইটার জাহাজের মাধ্যমে এসব অপরিশোধিত তেল খালাস করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।
জ্বালানি আমদানির এই ধারাবাহিকতা আগামী জুনেও বজায় থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে বিপিসি কর্তৃপক্ষ। আগামী মাসের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ইতোমধ্যে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেলবাহী আরও ১৬টি জাহাজের আগমনী সময়সূচি (শিডিউল) চূড়ান্ত করা হয়েছে। চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় দেশে নিকট ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


