অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য এবং কর বৃদ্ধির প্রস্তাব সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এ আশ্বাস দেন। সেমিনারে অর্থনীতিবিদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা তামাকের ব্যবহারজনিত মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সুনির্দিষ্ট কর আরোপের জোর দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন বাজেটে ক্ষতিকর ধূমপান, জর্দা ও গুলের ওপর বাড়তি কর আরোপ এবং তামাকের সহজলভ্যতা কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারে তামাকের কর কাঠামো আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট খসড়া প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়।
উপস্থাপিত প্রস্তাবনায় ২০ শলাকা বিশিষ্ট বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি ২ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৬০ টাকা এবং গুলের দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণসহ ধোঁয়াবিহীন এসব তামাক পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ধার্য করার জন্য নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
আলোচনায় প্রধান অতিথি ক্ষতিকর তামাক পণ্যের ব্যবসার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাদকের পৃষ্ঠপোষকদের রুখতে কেবল প্রশাসনিক শক্তি যথেষ্ট নয়, এর জন্য ব্যাপক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক খাতের কর কাঠামো আধুনিক ও কঠোর করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে উচ্চমূল্যের কারণে তামাক পণ্যের ব্যবহার হ্রাস পাবে, যা দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ জনগণকে মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


