ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

বর্তমান সরকার ক্রীড়াকে একটি আনুষ্ঠানিক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খেলাধুলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খেলোয়াড়দের একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ইতোমধ্যে ‘স্পোর্টস কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (২০ মে) সকালে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের ক্রীড়া খাতের আধুনিকায়ন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, নতুন প্রবর্তিত স্পোর্টস কার্ড সুবিধার আওতায় প্রথম পর্যায়ে আনসার ও ভিডিপির ১৫ জন সফল ক্রীড়াবিদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘদিনের পেশাগত অনিশ্চয়তা দূর হবে এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন প্রতিভা উঠে আসতে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

এছাড়া দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ নজর দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ১০টি প্রধান ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যকে স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জাতীয় সংকটে সহায়তার পাশাপাশি এই বাহিনী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জাতীয় পর্যায়ে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম বাংলাদেশ গেমসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করায় এই বাহিনীকে ২০০৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রদান করা হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাহিনীর সদস্যরা আগামীতেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কাঠামোগত আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন আইনি সংস্কারের চিত্রও প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা বাড়াতে ‘আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা ২০২৬’, ‘ভিডিপি বিধিমালা ২০২৬’, ‘অঙ্গীভূত আনসার বিধিমালা ২০২৬’ এবং ‘আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়নের কাজ বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

একই সাথে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে এই বাহিনীর তৃণমূল কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে ‘উপজেলা আনসার বিধিমালা ২০২৬’ প্রণয়নের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বাহিনীর সদর দপ্তরে আধুনিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা সামগ্রিক কর্মপরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

সফিপুরের কুচকাওয়াজ মাঠে অনুষ্ঠিত এই জাতীয় সমাবেশে সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর সদস্যদের সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত সদস্যদের পদক প্রদান করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ