মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর কৌশলী ফুটবলের মুখে ব্রাজিল

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর কৌশলী ফুটবলের মুখে ব্রাজিল

খেলাধুলা ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে আরও একবার নিজেদের রণকৌশল ও মাঠের কার্যকারিতার প্রমাণ দিল মরক্কো। বিশ্বমঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়ে ১-১ গোলের সমতায় মাঠ ছেড়েছে আফ্রিকার এই প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ফলাফলে সমতা থাকলেও, বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণাত্মক কৌশলের দিক থেকে মরক্কোই ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ তারকা নেইমার জুনিয়রের অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠের দুর্বলতা এবং আক্রমণভাগের বোঝাপড়ার ঘাটতি ব্রাজিলের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কো প্রথাগত রক্ষণাত্মক কৌশল পরিহার করে উচ্চ চাপের (হাই-প্রেসিং) ফুটবল উপহার দেয়। ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার কৌশল নেয় তারা। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই মরক্কোর বেনজামিন এল আইনুইয়ের একটি বিপজ্জনক আক্রমণ ব্রাজিলের রক্ষণে কাঁপন ধরায়, যা ছিল মূলত আফ্রিকান দলটির আক্রমণাত্মক মানসিকতার প্রাথমিক ইঙ্গিত।

মরক্কোর এই গতিময় ফুটবল ও আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাহিম দিয়াজ এবং পিএসজির তারকা উইং-ব্যাক আশরাফ হাকিমি। এই দুই তারকার উইং ভিত্তিক দ্রুতগতির দৌড় এবং নিখুঁত পাসিংয়ের সামনে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে বারবার খেই হারাতে দেখা যায়। ম্যাচের ২১ মিনিটে মরক্কোর এই গোছানো ওয়ান-টাচ ফুটবলের চূড়ান্ত ফল আসে। চমৎকার এক আক্রমণ থেকে ইসমায়েল সাইবারি নিখুঁত শটে বল জালে জড়ালে লিড নেয় মরক্কো।

বিপরীতে, চোটের কারণে প্রধান তারকা নেইমার জুনিয়রের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের পুরো ছক এলোমেলো করে দেয়। মাঝমাঠে একজন দক্ষ প্লে-মেকারের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্যাসেমিরো এবং লুকাস পাকেতা মাঝমাঠের দখল ধরে রাখার চেষ্টা করলেও, আক্রমণভাগে বল সরবরাহে তারা ব্যর্থ হন। ফলস্বরূপ, দলের দুই প্রধান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনহাকে বারবার নিচে নেমে এসে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে হয়, যা ব্রাজিলের প্রতি-আক্রমণের ধার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি ব্রাজিলের আক্রমণভাগে সুযোগ পাওয়া নতুন স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগোর প্রথমার্ধের একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করা দলের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। ভিনিসিয়ুসের সাথে থিয়াগোর বোঝাপড়ার অভাব কোচ কার্লো আনচেলোত্তির রণকৌশলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তবে সংকটের মুহূর্তে ব্রাজিলের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচের ৩২ মিনিটে একক দক্ষতায় মরক্কোর রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের পরাস্ত করে এক দর্শনীয় শটে গোল সমতায় ফেরান তিনি। এটি ছিল ব্রাজিলের জাতীয় দলের জার্সিতে ভিনিসিয়ুসের দশম আন্তর্জাতিক গোল। এই গোলের পর ম্যাচ কিছুটা সমতায় ফিরলেও প্রথমার্ধের বাকি সময় মরক্কোর দাপট বজায় ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের কোচ কিছুটা রক্ষণাত্মক পরিবর্তন এনে দলের ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা করেন। ফলে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ প্রথমার্ধের তুলনায় কিছুটা সংহত দেখায়। তবে মরক্কো তাদের কাউন্টার অ্যাটাকিং ও হাই-প্রেসিং কৌশল থেকে একচুলও নড়েনি। ম্যাচের শেষ বাঁশি পর্যন্ত তারা ব্রাজিলের রক্ষণভাগে চাপ বজায় রাখে। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই আর ব্যবধান বাড়াতে না পারলে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচটি ব্রাজিলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দুর্বলতাগুলো খতিয়ে দেখার একটি বড় সুযোগ। বিশেষ করে নেইমারের মতো একজন শীর্ষ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে বিকল্প কোনো প্লে-মেকার তৈরি না হওয়া দলটির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। আসন্ন বড় টুর্নামেন্টগুলোতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে হলে সেলেসাওদের দ্রুত মাঝমাঠের এই ঘাটতি দূর করতে হবে এবং আক্রমণভাগের সমন্বয় বাড়াতে হবে, অন্যথায় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হতে পারে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ