জাতীয় ডেস্ক
আগামী ২৬ বা ২৭ জুন পবিত্র আশুরা উদযাপিত হতে পারে। তবে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত এই ছুটিটি এবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (শুক্রবার বা শনিবার) পড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিরিক্ত কোনো সাধারণ ছুটি পাচ্ছেন না। বর্তমান সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আশুরা উপলক্ষে ২৬ জুন শুক্রবার সাধারণ ছুটি নির্ধারিত রয়েছে।
হিজরি ১৪৪৮ সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা এবং আশুরার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে এই সভায় চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, জিলহজ মাস ২৯ দিনে শেষ হলে মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাবে ১৬ জুন এবং সেই অনুযায়ী পবিত্র আশুরা অনুষ্ঠিত হবে ২৬ জুন শুক্রবার। অন্যদিকে, জিলহজ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলে মহররমের চাঁদ দেখা যাবে ১৭ জুন শনিবার, যার ফলে আশুরার ছুটি পড়বে ২৭ জুন শনিবার। উভয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে, ধর্মীয় এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসটি জুনের শেষ সপ্তাহের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই পড়ছে। সাধারণত বাংলাদেশে কোনো সাধারণ বা নির্বাহী আদেশের ছুটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পতিত হলে, তার বিপরীতে অতিরিক্ত কর্মদিবস ছুটির বিধান নেই। ফলে এবার চাকরিজীবীদের বার্ষিক ছুটির তালিকায় কোনো পরিবর্তন আসছে না।
এদিকে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি দেশের সর্বসাধারণের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা অনতিবিলম্বে নির্দিষ্ট টেলিফোন নম্বরে (০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭) অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসলামিক পরিভাষায় মহররম হিজরি সন তথা আরবি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস। এই মাসের দশম দিনটিকে ‘আশুরা’ বলা হয়। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাবহ। প্রতি বছর বাংলাদেশে এই দিনে সরকারি ছুটি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোরভাবে পালন করা হয়। তবে এবার ক্যালেন্ডারের বিশেষ বিন্যাসের কারণে অতিরিক্ত ছুটির সুযোগ না থাকায় সরকারি দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যসূচিতে কোনো অতিরিক্ত কর্মদিবস নষ্ট হচ্ছে না।


