ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনের উদীয়মান ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামালকে নিজেদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করতে না পারার বিষয়ে তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের (এফআরএমএফ) সভাপতি ফোউজি লেকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রমাণ করতে চান যে, ইয়ামালের মরক্কোর হয়ে খেলাটাই সঠিক সিদ্ধান্ত হতো।
বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ও প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত ১৭ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। স্পেনে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে উঠলেও তাঁর পিতৃভূমি মরক্কো এবং মাতৃভূমি ইকুয়েটোরিয়াল গিনি। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে তিনটির কম ম্যাচ খেলা পর্যন্ত কোনো ফুটবলারের সামনে দ্বৈত নাগরিকত্বের ভিত্তিতে অন্য দেশের জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকে। ইয়ামালের সামনেও স্পেন ও মরক্কো—উভয় দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পথ খোলা ছিল। মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন দীর্ঘ সময় ধরে এই তরুণ তারকাকে তাদের ডেরায় ভেড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইয়ামাল আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের জার্সি গায়ে জড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
এফআরএমএফ সভাপতি ফোউজি লেকা মরক্কোর একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দলবদল প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা নিয়ে সরাসরি কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি আশা করি কোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে আমরা স্পেনের মুখোমুখি হব। সেদিন মাঠের লড়াইয়ে সবাই বুঝতে পারবে যে, তার (ইয়ামাল) আসলে কোন দেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।” লেকার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, মরক্কো ফুটবল কর্তৃপক্ষ ইয়ামালের মতো বিশ্বমানের প্রতিভাকে হাতছাড়া করাটা সহজে মেনে নিতে পারছে না এবং তারা মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই এর জবাব দিতে উন্মুখ।
বিগত কয়েক বছর ধরে মরক্কো ফুটবল বিশ্বমঞ্চে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রদর্শন করছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে খেলার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করে তারা। ফোউজি লেকা মরক্কোর ফুটবলের এই সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে জানান, দেশটিতে বর্তমানে একাডেমি পর্যায় থেকে শুরু করে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প চালু রয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফলে ইউরোপে প্রবাসী অনেক মরক্কো বংশোদ্ভূত উদীয়মান ফুটবলার এখন স্পেনের মতো পরাশক্তিকে বাদ দিয়ে মরক্কোর জাতীয় দলকে বেছে নিচ্ছেন। তবে ইয়ামালের ক্ষেত্রে এই কৌশল সফল হয়নি।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ামালকে মরক্কোর দলে নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়াটা দেশটির ফুটবলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হলেও, এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইউরোপীয় ও আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে প্রতিভাবান খেলোয়াড় ধরে রাখার চলমান স্নায়ুযুদ্ধকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। বর্তমানে স্পেনের বার্সেলোনা ক্লাবে খেলা ইয়ামাল স্প্যানিশ জাতীয় দলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছেন। ফলে তাকে মরক্কোর জার্সিতে দেখার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল আফ্রিকান সিংহদের।


