খেলাধুলা ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই শক্তিশালী ইকুয়েডরকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়ে ঐতিহাসিক এক পয়েন্ট অর্জন করেছে কুরাসাও। এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল কারিগর ৩৭ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এলয় রোম, যিনি নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের ১৫টি আক্রমণ প্রতিহত করে একবিংশ শতাব্দীর ফুটবলে এক নতুন কীর্তি স্থাপন করেছেন।
ম্যাচজুড়ে দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তি ইকুয়েডর কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে মোট ২৮টি শট নেয়। তবে গোলবারের নিচে দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো এলয় রোমের অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণে ইকুয়েডরের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হতে পারেনি।
রোমের এই পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিসংখ্যানকেও পুনর্লিখিত করেছে। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ম্যাচে কোনো গোলরক্ষকের এটিই সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড। এর আগে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পেরুর গোলরক্ষক র্যামন কুইরোগা ১৩টি সেভ করেছিলেন, যাকে আজ ছাড়িয়ে গেলেন রোম। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে (অতিরিক্ত সময়সহ) এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের সামগ্রিক রেকর্ডটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের দখলে। ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের ম্যাচে তিনি ১৬টি সেভ করেছিলেন। রোম অতিরিক্ত সময়ের সুযোগ না পেলেও মাত্র ৯০ মিনিটে ১৫টি সেভ করে কার্যকারিতার দিক থেকে অনন্য নজির স্থাপন করলেন।
ম্যাচে কুরাসাওয়ের আক্রমণভাগ বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও, রক্ষণভাগের সুশৃঙ্খল পারফরম্যান্স এবং রোমের নেতৃত্ব দলটিকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচায়। বিপরীতে ইকুয়েডরের গোলরক্ষক হারনান গালিনদেজকে মাত্র তিনটি সেভ করতে হয়েছে। প্রথম ম্যাচেই এমন লড়াকু ড্রয়ের মাধ্যমে গ্রুপ পর্বে নিজেদের টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনা তৈরি করল কুরাসাও, যা বিশ্ব ফুটবলের উদীয়মান দলগুলোর জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


