নাটকীয় জয়ে ১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জার্মানি

নাটকীয় জয়ে ১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জার্মানি

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে দীর্ঘ এক যুগের খরা কাটিয়ে অবশেষে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে সর্বশেষ শিরোপা জয়ের পর বিগত দুটি আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে। ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের সেই দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে এবার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করল ইউরোপের এই পরাশক্তি। টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য জার্মানির জন্য মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না। প্রথমার্ধের ৩০তম মিনিটে ফ্রাঙ্ক কেসির চমৎকার গোলে লিড নেয় আইভরি কোস্ট। এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর প্রথাগত চাপে পড়ে যায় জার্মান শিবির। ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানও দলটির বিপক্ষে কথা বলছিল; এর আগে বিশ্বকাপে খেলা সর্বশেষ ১০টি ম্যাচে প্রথমে গোল হজম করার পর মাত্র একবারই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছিল তারা। প্রথমার্ধে আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা জার্মানিকে সমতায় ফিরতে দেয়নি।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে খেলায় ঘুরে দাঁড়ায় জার্মানি। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন এনে আক্রমণভাগের গতি বৃদ্ধি করেন। আলেকজান্ডার পাভলোভিচ, লিরয় সানে এবং জামাল মুসিয়ালার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় নাদিয়েম আমিরি, জেমি লেভেলিং ও ডেনিজ উন্দাভকে। কোচের এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করে।

ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে আমিরির নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে জার্মানিকে সমতায় ফেরান বদলি খেলোয়াড় ডেনিজ উন্দাভ। সমতা ফেরার পর ম্যাচের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের (ইনজুরি টাইম) চতুর্থ মিনিটে আসে জয়সূচক গোল। ফেলিক্স এনমেচার পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতরে চমৎকার দক্ষতায় ঘুরে দাঁড়িয়ে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন উন্দাভ। ফলে ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিশ্চিত হয় জার্মানির।

অন্যদিকে, আইভরি কোস্টের জন্য ম্যাচটি ছিল চরম হতাশার। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে সাইমন আদিংরা গোল করার একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে আফ্রিকার দলটি অন্তত গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত, যা তাদের পরবর্তী পর্বের সমীকরণ সহজ করত।

এই জয়ের মাধ্যমে জার্মানি কেবল নকআউট পর্বই নিশ্চিত করেনি, আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন দুটি রেকর্ডও স্থাপন করেছে। বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ ১৬টি ম্যাচ জয়ের অনন্য কীর্তি এখন জার্মানির দখলে। এই তালিকায় তারা ১৫টি জয় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গেছে। এর পাশাপাশি, জার্মানির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার বিশ্বকাপে গোলকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ২১টি ম্যাচ খেলার একক রেকর্ড গড়েছেন।

গ্রুপ ‘ই’ তে টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করেছে জার্মানি। সমান ম্যাচে এক জয় ও এক পরাজয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আইভরি কোস্ট। নকআউট পর্বে পা রাখায় জার্মানির ফুটবল ভক্তদের মাঝে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কেটে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ