আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চার মাসব্যাপী চলমান সংঘাত নিরসনে এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে এই সংলাপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পর আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে এই কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী আলোচনা শুরু হলো।
বৈঠকে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যেই সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে মার্কিন প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার, যাঁরা ইতিমধ্যে আলোচনার কারিগরি দিকগুলো নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ব্যাপারে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে দেশটির একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল শনিবারই জুরিখে এসে পৌঁছেছে।
এই ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনায় মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান ও কাতার। আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসলামাবাদ ও দোহা দুই পক্ষের মধ্যে অর্জিত সমঝোতা বাস্তবায়নে তাদের সর্বাত্মক কূটনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে। কাতার এই প্রক্রিয়ায় অন্যতম প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আলোচনার প্রথম দিনের কার্যসূচিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি, বিশেষ করে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত নিরসন সংক্রান্ত একটি জরুরি অধিবেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বসার পর এটিই হবে প্রথম প্রধান আলোচ্য বিষয়। তবে এই নির্দিষ্ট অধিবেশনে ইসরায়েল, হিজবুল্লাহ কিংবা লেবানন সরকারের কোনো প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন না। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই দ্বিপাক্ষিক সংলাপের ফলাফলের দিকে গভীর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।


