আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান আলোচনায় ইসরায়েল বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক রস হ্যারিসন। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার শর্তগুলো কার্যকর করার বিষয়টিই এখন প্রথম ধাপে প্রাধান্য পাবে। পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক মতপার্থক্য নিয়ে জটিল কারিগরি আলোচনাগুলো পরবর্তী পর্যায়ের জন্য রাখা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রস হ্যারিসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির জটিল কারিগরি বিষয়গুলোতে যাওয়ার আগে প্রাথমিক ধাপের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চাইছে। এ ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট। অতীতের আলোচনার সময় মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের অভিজ্ঞতা থেকে তেহরান এখন চায়, ওয়াশিংটন যেন ইসরায়েলের ওপর তার কূটনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেশটির সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখে, বিশেষ করে লেবাননে হিজবুল্লাহকে ঘিরে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। ইরান মনে করছে, সমঝোতার আওতায় ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তবে ইসরায়েল এই সমঝোতার সরাসরি স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায়, তাত্ত্বিকভাবে তারা এই চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য নয়। এই কৌশলগত অবস্থানই চলমান আলোচনার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। রস হ্যারিসন সতর্ক করেছেন যে, ইসরায়েল চুক্তির অংশ না হওয়ায় তারা সরাসরি চুক্তি ভঙ্গ করছে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি তার আঞ্চলিক মিত্র ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার শর্ত মানাতে ব্যর্থ হয়, তবে তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন-ইরান সমঝোতার ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা, ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সক্ষমতার ওপর। চুক্তির পরবর্তী ধাপগুলোতে পারমাণবিক ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক আস্থার সংকট দূর করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


