আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফুটবল মাঠের সাফল্যের পর এবার ব্যবসায়িক জগতেও এক অভূতপূর্ব ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক স্যার ডেভিড বেকহ্যাম। প্রথম ব্রিটিশ ক্রীড়াবিদ হিসেবে বিলিয়নিয়ার বা শতকোটিপতি ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন ৫১ বছর বয়সী এই সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা। আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যমের বার্ষিক ধনী ব্যক্তিদের তালিকা (রিচ লিস্ট-২০২৬) অনুযায়ী, ডেভিড বেকহ্যাম ও তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি পাউন্ডের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, বেকহ্যাম দম্পতির বর্তমান মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৮৫ বিলিয়ন পাউন্ড (আনুমানিক ১ ডলারে দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। বিগত এক বছরের ব্যবধানে এই তারকা দম্পতির পারিবারিক সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের তালিকায় যেখানে তাদের সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে এই বিপুল উত্থান আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও ব্যবসায়িক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেভিড বেকহ্যামের এই বিশাল আর্থিক উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে তার দূরদর্শী বিনিয়োগ। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ‘ইন্টার মায়ামি’র সহ-মালিক তিনি। ২০২৩ সালে আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসিকে ক্লাবটিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই ইন্টার মায়ামির ব্র্যান্ড মূল্য ও বাণিজ্যিক রাজস্ব নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ইন্টার মায়ামির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন পাউন্ড), যা মেজর লিগ সকারের ইতিহাসে যেকোনো ক্লাবের জন্য সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে মূল্যবান ফ্র্যাঞ্চাইজি। ক্লাবে বেকহ্যামের ২৬ শতাংশ মালিকানা থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধি তার ব্যক্তিগত সম্পদকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে।
কেবল ফুটবল ক্লাবই নয়, বেকহ্যামের আয়ের বহুমুখীকরণ তার এই ঐতিহাসিক অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ইন্টার মায়ামির নিজস্ব স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশাল রিয়েল এস্টেট ও আবাসন প্রকল্প থেকে বিপুল লভ্যাংশ আসছে। এর পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস এবং লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হুগো বসের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমূল্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর চুক্তি বেকহ্যামের বার্ষিক আয়কে স্থিতিশীল রেখেছে।
অন্যদিকে, ডেভিড বেকহ্যামের পাশাপাশি তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের নিজস্ব ব্যবসায়িক সাফল্যও এই যৌথ সম্পদকে বিলিয়ন পাউন্ডের ঘরে পৌঁছাতে বড় অবদান রেখেছে। আশির দশকের পপ তারকা থেকে ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারে রূপ নেওয়া ভিক্টোরিয়ার নিজস্ব লাক্সারি ফ্যাশন ও বিউটি ব্র্যান্ডের বিক্রি গত বছর ১০০ কোটি পাউন্ডের মাইলফলক স্পর্শ করে, যা এই দম্পতির বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যকে আরও শক্তিশালী করেছে।
যুক্তরাজ্যের ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট ধনীদের তালিকায় বর্তমানে বেকহ্যাম দম্পতি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ফর্মুলা ওয়ানের সাবেক প্রধান নির্বাহী বার্নি একলেস্টোন ও তার পরিবার, যাদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড। তবে সক্রিয় বা অবসরপ্রাপ্ত পেশাদার ক্রীড়াবিদদের মধ্যে বেকহ্যামই প্রথম এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন। বিপরীতে, একই তালিকায় থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান সহ-মালিক স্যার জিম র্যাটক্লিফের মতো বড় ব্যবসায়ীদের সম্পদ কমলেও, বেকহ্যামের খেলাধুলা-ভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। ক্রীড়া অর্থনীতিবিদদের মতে, মাঠের অবসরের এক দশক পরও একজন অ্যাথলেট কীভাবে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে পারেন, বেকহ্যামের এই সাফল্য তারই প্রমাণ।


