অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের প্রয়াণে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের শোক

অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের প্রয়াণে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের শোক

রাজনীতি ডেস্ক

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার কারিনা কায়সার। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার সকালে এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

পারিবারিক ও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, লিভারের গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কারিনা কায়সার। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার মধ্যরাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শোকবার্তায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, কারিনা কায়সার ছিলেন জুলাই বিপ্লবের রাজপথের এক সাহসী সহযোদ্ধা। বিগত সরকারের আমলের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে সংঘটিত সহিংসতার বিরুদ্ধে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজপথে অত্যন্ত সোচ্চার ছিলেন। তৎকালীন সরকারের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রণী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর এই আপসহীন ও নির্ভীক অবস্থান দেশের তরুণ সমাজ ও অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের দীর্ঘকাল অনুপ্রাণিত করবে।

কারিনা কায়সারের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট থেকে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, কারিনা ছিলেন তার অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তাঁর সৃজনশীল কাজ এবং একই সাথে জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে সমসাময়িক তরুণদের মাঝে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। মাত্র অল্প বয়সে তাঁর এই চলে যাওয়া দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।

উল্লেখ্য, কারিনা কায়সার ডিজিটাল মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি অর্জনের পাশাপাশি ছোটপর্দায় অভিনয় ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে সমসাময়িক সামাজিক নানা অসঙ্গতি ও রাজনৈতিক সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ে বিপুল দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেন। গত বছরের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন প্রতিবাদী কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে আসেন।

রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, কারিনা কায়সারের মতো তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মীর অকাল প্রয়াণ বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও অধিকারমুখী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জন্য একটি বড় ধাক্কা। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর অনুসারী এবং সহযোদ্ধারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করছেন। মরহুমার পরিবার জানিয়েছে, চেন্নাই থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁর দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ