জাতীয় ও প্রশাসন ডেস্ক
দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বগুড়া। আগামীকাল বুধবার থেকেই বগুড়া পৌরসভার পরিবর্তে সিটি কর্পোরেশন হিসেবে এর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত প্রশাসকের আনুষ্ঠানিক যোগদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হলো। এর আগে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়া সফরকালে নবগঠিত এই সিটি কর্পোরেশনের ফলক উন্মোচন করেছিলেন। পরবর্তীতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর অনুমোদন এবং সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে রূপান্তরের এই প্রক্রিয়াটি আইনি ও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর হয়।
পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ায় বগুড়া অঞ্চলে নাগরিক সেবার পরিধি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন এই প্রশাসনিক কাঠামোর ফলে বড় আকারের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, পরিকল্পিত নগর অবকাঠামো নির্মাণ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, ফ্লাইওভার এবং ওভারপাস নির্মাণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সাথে স্থানীয় সরকারের নিজস্ব আইন কাঠামোর আওতায় এই অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে ঢাকা বা চট্টগ্রামের আদলে পৃথক ‘ওয়াসা’ গঠনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কিংবা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-র মডেলে এই অঞ্চলের পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (বউক) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক বিন্যাসের দিক থেকে বগুড়া কোনো বিভাগীয় শহর না হলেও, এর সিটি কর্পোরেশন এলাকাটি আগে থেকেই পাঁচটি পৃথক থানা দ্বারা বিভক্ত। ফলে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক নিরাপত্তা জোরদারে ভবিষ্যতে এখানে একটি পৃথক মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট গঠনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে নবগঠিত এই সিটি কর্পোরেশনের প্রথম প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এম আর ইসলাম স্বাধীন। দায়িত্বভার গ্রহণ শেষে তিনি সরকার প্রধান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বগুড়াকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং পরিকল্পিত বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য। নাগরিক সেবার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে দ্রুততম সময়ে পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হবে। বর্ষা মৌসুমে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন করাকেই বর্তমানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


