আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তিতে হাইকোর্টের বিস্ময়

আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তিতে হাইকোর্টের বিস্ময়

আইন ও আদালত ডেস্ক

আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম বিলুপ্ত করায় তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২০ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেলের একক বেঞ্চে সচিবালয় বিলুপ্তির সরকারি প্রজ্ঞাপনটি উপস্থাপন করা হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের কাছে এর আইনি বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে দায়ের করা রিটের মূল আবেদনকারী আইনজীবী শিশির মনির সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘আদালত অবমাননা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বিচারাধীন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই প্রশাসনিক আদেশ জারি করে সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আনুষ্ঠানিক আবেদন দায়ের করা হবে।

আইনজীবী শিশির মনির আরও উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তড়িঘড়ি করে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

ঘটনার পটভূমি অনুসন্ধানে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। একই আদেশে ওই সচিবালয়ে কর্মরত ১৫ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এর আগে, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পৃথক করার অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে ওই অধ্যাদেশটি বাতিল করে।

অধ্যাদেশ বাতিলের পর বিচার বিভাগ পৃথককরণের মূল চেতনা সমুন্নত রাখতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্ট পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রপক্ষ, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আপিল আবেদন দায়ের করা হয়নি।

আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় হাইকোর্ট পূর্বে এক আদেশে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন যে, আপিল বিভাগে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সচিবালয়ের কোনো কার্যক্রম বা আইনি কাঠামো বন্ধ বা বাতিল করা হবে না। আদালতের সেই নির্দেশনা ও বিচারাধীন মামলার প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে আকস্মিকভাবে এই বিলুপ্তির প্রজ্ঞাপন জারি করায় সরকারের এই সিদ্ধান্তটি এখন গভীর আইনি ও সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচার বিভাগের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় থাকা ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির অন্যতম প্রধান শর্ত। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় আসার আগেই নির্বাহী বিভাগের এমন সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বৃহস্পতিবার আদালত অবমাননার আবেদনটি শুনানির জন্য উত্থাপিত হলে এই বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে পরবর্তী দিকনির্দেশনা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ