জাতীয় ডেস্ক
জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানীয় অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চলমান অগ্রগতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
বুধবার (২০ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা বড় মসজিদের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের ধারাবাহিক সমর্থন ও বিপুল ভোটে নির্বাচিত করার বিষয়টি তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা ও শক্তি। একই সঙ্গে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন, যেন জনগণের কল্যাণে নেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি তিনি যথাযথভাবে ও সফলতার সঙ্গে পূরণ করতে পারেন।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, তিনি এর আগেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে গত নির্বাচনটিই হয়তো তার জীবনের শেষ নির্বাচন হতে পারে এবং তিনি এখনো সেই অবস্থানেই অটল রয়েছেন। তবে নির্বাচনী রাজনীতিতে তার ভবিষ্যৎ অবস্থান যা-ই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও জনকল্যাণমূলক কাজ শেষ সময় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের বিশদ চিত্র তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে প্রশাসনিক সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে দুটি নতুন উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেছে। এই নতুন প্রশাসনিক বিন্যাসের ফলে স্থানীয় সরকার কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষ নিজ দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সরকারের গৃহীত মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রক্রিয়াগত কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই দুটি বড় প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক যোগাযোগ, গ্রামীণ অবকাঠামো এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে আরও বেশ কিছু নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব তুলে ধরে অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মন্ত্রী মসজিদটির নির্মাণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, দাতা সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এলাকার যেকোনো সামাজিক ও ধর্মীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সরকারের পক্ষ থেকে আগামীতেও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের ইমাম-খতিব এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।


