জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। আজ বুধবার সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যাত্রীসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিমানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেশের বিমান অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। যে সকল বিমানবন্দরে যাত্রী যাতায়াতের চাপ বেশি, অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করার বিষয়টি সরকারের বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে। এ সময় তিনি স্থানীয় জনগণ ও অংশীজনদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধাপে ধাপে সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিমণ্ডলে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৈয়দপুর বিমানবন্দরটি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যকার আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটিকে আন্তর্জাতিক রূপ দিলে উত্তরবঙ্গের উৎপাদিত কৃষি ও শিল্পপণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ তৈরি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। তবে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ, আধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণসহ বেশ কিছু বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, যা সরকারের পর্যায়ক্রমিক উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সম্পন্ন করা হবে।
বিমানবন্দরে মন্ত্রীর উপস্থিতিকালীন সময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিন আকতার সাহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু এবং যুবদলের আহ্বায়ক তারেক আজিজিসহ নীলফামারী জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে এই সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় ও পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী সড়কপথে ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়নমূলক কর্মসূচি পরিদর্শনের উদ্দেশে রওয়ানা হন। সরকারের এই আশ্বাসের পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের স্বার্থে সৈয়দপুর বিমানবন্দরটির আন্তর্জাতিকীকরণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।


