সিলেটে আঞ্চলিক পর্যায়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর উদ্বোধন, তৃণমূলের প্রতিভা অন্বেষণের তাগিদ

সিলেটে আঞ্চলিক পর্যায়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর উদ্বোধন, তৃণমূলের প্রতিভা অন্বেষণের তাগিদ

জাতীয় ডেস্ক

সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান কিশোর খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে এবং তাদের ক্রীড়াঙ্গনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সিলেটে আঞ্চলিক পর্যায়ে শুরু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’। বুধবার (২০ মে, ২০২৬) সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। চার জেলার বিজয়ী অনূর্ধ্ব কিশোর খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই প্রতিযোগিতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশব্যাপী এই কার্যক্রমের সূচনা করেছেন, যা সিলেট অঞ্চলের ক্রীড়া অনুরাগী ও সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের বিষয়।

ক্রীড়াক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়নকে একটি রাষ্ট্রের অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হলে শক্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত প্রয়োজন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের যে উন্নয়ন ও সামাজিক ভিত নির্মাণ করে গেছেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উঠে আসা কিশোর খেলোয়াড়রাই আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে দেশের যোগ্য দূত হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞ ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে ভালো মানের ক্রীড়াবিদ তৈরি করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত চর্চা তৃণমূল পর্যায় থেকেই শুরু করা প্রয়োজন। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো আয়োজনগুলো গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলের লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভাগুলোকে নিয়মতান্ত্রিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ক্ষেত্রে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মাদক ও কিশোর অপরাধের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, এবং অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মো. আনোয়ারুল হক। এছাড়া রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের চার জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা, প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধান অতিথি বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। পরবর্তীতে তিনি মাঠে নেমে চার জেলা থেকে আগত তরুণ ফুটবলার ও ক্রীড়াবিদদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং ফুটবলে কিক করার মাধ্যমে মূল মাঠের প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আগামী কয়েকদিন ধরে এই আঞ্চলিক পর্বের বিভিন্ন ইভেন্ট ও প্রতিযোগিতা জেলা স্টেডিয়ামে অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ