যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ডের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে অ্যারন লুকাস

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ডের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে অ্যারন লুকাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ডিএনআই) বা জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তুলসি গ্যাবার্ড। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্রটি প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন তিনি। আগামী ৩০ জুন থেকে তাঁর এই পদত্যাগ কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে এটি চতুর্থ কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগের ঘটনা, যা মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিজের পদত্যাগপত্রে তুলসি গ্যাবার্ড ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর শরীরে সম্প্রতি ক্যানসার ধরা পড়েছে। এই কঠিন ও সংবেদনশীল সময়ে জীবনসঙ্গীর পাশে থাকা এবং তাঁকে সময় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পারিবারিক এই সংকটের কারণেই তিনি আগামী জুনের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

গ্যাবার্ডের পদত্যাগের ঘোষণার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, তুলসি গ্যাবার্ডের পদত্যাগের পর তাঁর প্রধান ডেপুটি অ্যারন লুকাসকে ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৩০ জুনের পর থেকে পরবর্তী স্থায়ী প্রধান নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত লুকাস এই দায়িত্ব পালন করবেন।

সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য তুলসি গ্যাবার্ড গত বছর দল পরিবর্তন করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিবিরে যোগ দেন। ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ, এনএসএসহ মোট ১৮টি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার মূল সমন্বয়ক হিসেবে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পদে নিযুক্ত হন। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন গোয়েন্দা কমিউনিটিতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গিয়েছিল।

তবে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্যাবার্ডের এই পদত্যাগ কেবল পারিবারিক কারণেই সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে কিছু নীতিগত মতপার্থক্যও ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। সম্প্রতি ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধকালীন নীতি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক মূল্যায়ন নিয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে গ্যাবার্ডের কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে প্রশাসনের অভ্যন্তরে গুঞ্জন রয়েছে। একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে আন্তর্জাতিক সংঘাতে মার্কিন জড়ানোর বিষয়ে তাঁর ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভা ও প্রশাসন গঠনের পর থেকেই দফায় দফায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ বা অপসারণের ঘটনা ঘটছে। গ্যাবার্ডের এই আকস্মিক বিদায় ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা নীতিতে কতটুকু প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকটের এই সময়ে মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ