ওয়াশিংটন কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম অপসারণ সম্পন্ন

ওয়াশিংটন কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম অপসারণ সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের অন্যতম ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ থেকে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মার্কিন ফেডারেল আদালতের একটি চূড়ান্ত নির্দেশনার পর গত শনিবার ওয়াশিংটন সময় ভোরের দিকে নাম অপসারণের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ম্যাট ফ্লোকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভবন ও প্রাঙ্গণে ট্রাম্পের নামসংবলিত সব ধরনের সাইনবোর্ড এবং পরিচিতিমূলক ফলক পুরোপুরি অপসারণ করা হয়েছে। নামফলকটি সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলার আগ পর্যন্ত ভবনের বাইরের অংশটি সাময়িকভাবে একটি সাদা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। মূলত তীব্র বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের কারণে প্রতিকূল আবহাওয়ার সৃষ্টি হওয়ায় শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে নাম অপসারণের এই প্রক্রিয়াটি আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়েছিল। কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ শেষ মুহূর্তে আদালতের এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে আপিল করে এবং নাম অপসারণ স্থগিত রাখার আবেদন জানায়। তবে মার্কিন ফেডারেল আদালতের বিচারক পরিচালনা পর্ষদের সেই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন। এর ফলে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে আইনি সব জটিলতার অবসান ঘটে এবং আদালতের আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

আইনি এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত মে মাসে। সে সময় মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ক্রিস কুপার এক ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জন এফ কেনেডি সেন্টারের যেকোনো ধরনের নামকরণ বা নাম পরিবর্তনের একক ও আইনগত ক্ষমতা কেবল মার্কিন কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। ফলে এর বাইরে আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে হওয়া যেকোনো নাম বা সংযুক্তি অবৈধ বলে গণ্য হবে। সেই রায়ে বিচারক কুপার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, নির্দিষ্ট শুক্রবারের মধ্যেই কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম অপসারণ করতে হবে।

আদালতের এই রায় আসার পর থেকেই নাম পরিবর্তনের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। যার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেই প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল বা সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ট্রাম্পের নাম পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী শুক্রবার রাতেই মূল নামফলকটি সরানোর প্রাথমিক কাজ শুরু হয়।

মার্কিন রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে ঘটা এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার রাতে যখন কেনেডি সেন্টারের কর্মীরা নামফলকটি অপসারণের মূল প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ওয়াশিংটনের স্থানীয় বাসিন্দাসহ বহু মানুষ ভবনটির সামনে এসে জড়ো হন। ঐতিহাসিক এই ঘটনার সময় উপস্থিত জনতার একটি বড় অংশকে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। এছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমেও হাজার হাজার মানুষ সরাসরি সম্প্রচারের (লাইভ স্ট্রিমিং) মাধ্যমে এই নাম সরানোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

এই সামগ্রিক ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বুদ্ধিজীবী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ আদালতের এই রায়কে ঐতিহাসিক এবং দেশের আইনের শাসনের যথাযথ প্রতিফলন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের নাম রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক ও রাজনৈতিক অনুসারীদের একটি অংশ আদালতের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের নাম অপসারণের মধ্য দিয়ে আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রশাসনিক ও আইনি দ্বন্দ্বের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ