মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যা: নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যা: নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

আইন ও আদালত ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে আজ।

সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখা জানিয়েছে, বিচারিক প্রক্রিয়ার শুরুতেই আজ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করা হবে। এরপরই মামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করার মূল ধাপ শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, এই বিচারপ্রক্রিয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির স্থাপন করবে। একই সাথে এটি ভবিষ্যতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভারসাম্য রক্ষা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে।

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন— নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক এবং ফজলে রাব্বি।

অন্যদিকে, এই মামলার অপর ২৪ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের তালিকায় তৎকালীন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং এডিসি রওশুনুল হক।

এছাড়া অন্যান্য পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এবং ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে ইতিপূর্বে প্রয়োজনীয় আইনি নোটিশ ও পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা আত্মসমর্পণ না করায় তাদের অনুপস্থিতিতেই আইনানুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রসিকিউশন প্যানেল আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ