১৮ সেকেন্ডে সভানবার্গের গোল: তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে সুইডেনের রেকর্ড জয়

১৮ সেকেন্ডে সভানবার্গের গোল: তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে সুইডেনের রেকর্ড জয়

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ১৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন সুইডিশ মিডফিল্ডার মাতিয়াস সভানবার্গ। মেক্সিকোর মন্টেরেইয়ের এস্তাদিও মন্টেরেতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে সুইডেন। দাপুটে এই জয়ের মাধ্যমে ৩ পয়েন্ট এবং ৪ গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে ইউরোপের এই পরাশক্তি। অন্যদিকে বড় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হলো তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান।

ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পক্ষে নেয় সুইডেন। ইয়াসিন আয়ারির প্রথম গোলের পর দলের তারকা স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তিউনিসিয়া প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও বিরতির পর সুইডিশ আক্রমণের মুখে তাদের রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধে ভিক্টর গিওকেরেস সুইডেনের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করে দলের জয় সহজ করে তোলেন। ম্যাচের শেষ দিকে সুইডেন আরও একটি গোল করলে ৫-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত হয়।

ম্যাচের মূল আকর্ষণ তৈরি হয় দ্বিতীয়ার্ধে সুইডেনের প্রধান কোচ গ্রাহাম পটার কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে মাতিয়াস সভানবার্গকে মাঠে নামানোর পর। মাঠের সীমানায় পা রাখার মাত্র ১৮ সেকেন্ডের মধ্যে সতীর্থ আলেকজান্ডার ইসাকের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠান এই মিডফিল্ডার। এই তাৎক্ষণিক সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম বদলি গোলের অনন্য কীর্তি স্থাপন করলেন তিনি। এই রেকর্ডের ফলে তিনি ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২১ সেকেন্ডে গোল করা ডেনমার্কের ইবি স্যান্ডের রেকর্ডটি ভেঙে দেন। উল্লেখ্য, এই তালিকায় শীর্ষস্থানটি এখনো উরুগুয়ের রিচার্ড মোরালেসের দখলে, যিনি ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে মাত্র ১৬ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন।

এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল সুইডেন। দলের এই বিধ্বংসী ফর্ম এবং অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের তাৎক্ষণিক কার্যকারিতা আগামী ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। অপরদিকে, রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে তিউনিসিয়াকে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কৌশলগত আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ