আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশে উৎপাদনশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে স্পেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু। বৈঠকে বাংলাদেশ ও স্পেনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বহুমুখীকরণের কৌশলগত দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্পেন ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই কূটনৈতিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন বাংলাদেশ তার অর্থনীতিকে শিল্পভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে বড় ধরনের সংস্কার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটন, কৃষি, শিক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো উদীয়মান খাতগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্পেনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় দেশটির কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রদূত মারিয়া সিস্তিয়াগা বিশেষ করে বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্প ও অবকাঠামো খাতের আধুনিকায়নে স্পেনের বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের বেসরকারি খাতের (Private Sector) মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি বর্তমানের চেয়ে কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের এই রূপান্তরকালীন অর্থনীতিতে স্পেনের বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানান। তিনি স্প্যানিশ প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষায় এবং ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণে (Ease of Doing Business) নীতিগত ও আইনি সংস্কার অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় বিদেশি পুঁজির জন্য অন্যতম নিরাপদ এবং সম্ভাবনাময় গন্তব্য।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে স্পেনের উন্নত প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করার মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং এটি পারস্পরিক অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে। বৈঠকে উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করার এবং আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।


