সন্তানের ভরণপোষণ না দেওয়া ১৩ হাজার আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ

সন্তানের ভরণপোষণ না দেওয়া ১৩ হাজার আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সন্তানের ভরণপোষণ ও আইনি পাওনা (চাইল্ড সাপোর্ট) পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া প্রায় ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন ফুটবল সমর্থককে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আর্জেন্টিনা সরকারের পক্ষ থেকে এসব খেলাপি অভিভাবকের একটি তালিকা ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে তারা আমেরিকার কোনো স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে না পারেন।

আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘সেফ স্ট্যান্ডস’-এর আওতায় এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো, যারা আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও নিজের সন্তানের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ বা অনীহা প্রকাশ করছেন, অথচ ফুটবল ম্যাচের পেছনে বিপুল অর্থ ও সময় ব্যয় করছেন, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে আদালতের রায়ে খেলাপি হিসেবে প্রমাণিত ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট উপভোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।

বুয়েনস আইরেসের মেয়র এই সিদ্ধান্তের সপক্ষে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, যারা নিজেদের সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে পারে না, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক বিনোদনমূলক আসরে অংশ নেওয়ার কোনো নৈতিক বা আইনি অধিকার তাদের নেই। দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রী আলেহান্দ্রা মন্তেওলিভা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করে স্পষ্ট করেছেন যে, পারিবারিক দায়িত্ব এড়ানো ব্যক্তিদের জন্য স্টেডিয়ামে কোনো স্থান থাকবে না।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির প্রশাসন চাইল্ড সাপোর্ট দিতে ব্যর্থ ব্যক্তিদের সনাক্তকরণে বিশেষ অভিযান জোরদার করে। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সাথে বিনিময় করা হয়, যা আন্তর্জাতিক সীমান্তে এবং স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বারে কার্যকর করা হবে।

আর্জেন্টিনার স্থানীয় জনগণের মধ্যে, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের অধিকার আদায়ে আইনি লড়াই চালিয়ে আসা একা মায়েদের (সিঙ্গেল মাদার) মাঝে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল ফুটবল ম্যাচ দেখার ওপর নিষেধাজ্ঞাই নয়, বরং পারিবারিক দায়িত্ব পালনে উদাসীন ব্যক্তিদের জন্য একটি কঠোর সামাজিক ও আইনি বার্তা। এর ফলে ভবিষ্যতে চাইল্ড সাপোর্ট আদায়ের হার বৃদ্ধি পাবে এবং শিশুদের অধিকার সুরক্ষা আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ