এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে আইনি লড়াইয়ে বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা

এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে আইনি লড়াইয়ে বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা

বিনোদন ও সংস্কৃতি ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ব্যক্তিত্বের অধিকার (পার্সোনালিটি রাইটস) সুরক্ষায় বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল পাঞ্জাব কিংসের সহ-মালিক প্রীতি জিনতা। ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি এবং ভুয়া এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে তাঁর পরিচয় ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল ও মেটাসহ একাধিক টেক জায়ান্টের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি পেয়েছেন তিনি। বোম্বে হাইকোর্ট এই বিশেষ আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি দায়েরের সবুজ সংকেত দিয়েছে।

মামলার বিবরণ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে, বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি অভয় আহুজা প্রীতি জিনতার দায়ের করা বিশেষ আবেদনটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে এই আদেশ দেন। আদালতে অভিনেত্রীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী রোহন কদম। তিনি আদালতকে অবহিত করেন যে, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রীতি জিনতার পরিচয় ও অবয়ব হুবহু নকল করা হচ্ছে। এমনকি তাঁর নামে তৈরি করা ভুয়া চ্যাটবটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মতো বিভ্রান্তিকর ঘটনাও ঘটছে, যা জনসাধারণের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে।

আদালতে পেশ করা অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রীতি জিনতার নাম, কণ্ঠস্বর ও শারীরিক অবয়ব (লাইকনেস) তাঁর কোনো ধরনের পূর্ব অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই বাণিজ্যিক ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ডিজিটাল রূপান্তর ও কনটেন্ট তৈরি করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত অধিকার, গোপনীয়তা এবং দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামের ওপর সরাসরি আঘাত হানা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ১৯৫৭ সালের ভারতীয় কপিরাইট আইনের সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন হিসেবেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবীর তথ্যমতে, গুগল, মেটা, এক্স (সাবেক টুইটার), জিফি এবং গোড্যাডির মতো শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট ও চ্যাটবট ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রীতি জিনতার ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাগত সুনাম ও ব্যবসায়িক স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও অভিযুক্ত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকগুলোর মূল সদর দপ্তর ভারতের বাইরে বা বিদেশে অবস্থিত, তা সত্ত্বেও মামলায় যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এই ডিজিটাল অপপ্রচারের মূল প্রভাব ও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ভারতে বসবাসরত মানুষ, বিশেষ করে বিনোদন শিল্পের কেন্দ্রস্থল মুম্বাইয়ে এর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান এআই যুগে সেলিব্রিটি এবং সুপরিচিত ব্যক্তিত্বদের পরিচয় ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারনেটে ডিপফেক ও ভুয়া কনটেন্ট তৈরির সহজলভ্যতা তারকাদের আইনি সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে বাধ্য করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিনোদন অঙ্গনে এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে বোম্বে হাইকোর্ট থেকে নিজেদের ব্যক্তিত্ব সুরক্ষার (পার্সোনালিটি রাইটস) আইনি স্বীকৃতি ও নিষেধাজ্ঞা আদায় করেছেন শিল্পা শেট্টি, অক্ষয় কুমার, সুনীল শেট্টি এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের মতো একাধিক শীর্ষস্থানীয় তারকা। প্রীতি জিনতার এই সাম্প্রতিক আইনি পদক্ষেপ প্রযুক্তি মাধ্যমে ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ