জাতীয় ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন স্থানে আবারও একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৯টা ২৯ মিনিটে অনুভূত এই কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৪। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক আজিজুর রহমান জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মণিপুর অঞ্চলে, যা রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৩৬১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। উৎপত্তিস্থলটি দূরবর্তী হলেও রিখটার স্কেলে এর গভীরতা ও তীব্রতার কারণে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে মৃদু ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। তবে দূরত্বের কারণে ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা কম ছিল।
রাতের এই আকস্মিক কম্পনে বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক দেখা দেয়। ঢাকা ও সিলেটের কিছু এলাকায় মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো ধরনের প্রাণহানি কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গত ১১ জুন রাত ৯টা ৪০ মিনিটেও সারা দেশে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার একটি অনুরূপ মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ভূবিজ্ঞানীদের মতে, সেই কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসামের শিলচর অঞ্চলে, যা বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পর পর দুটি মাঝারি ও মৃদু মাত্রার ভূকম্পন বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলছে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরেই একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল ডাউকি ফল্টলাইন এবং ভারতীয় ও বার্মিজ প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এই অঞ্চলে প্রায়ই মাঝারি ধরনের ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। ভূতাত্ত্বিক অবস্থান বিবেচনায় এ ধরনের ছোট ছোট কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ঘন ঘন মৃদু কম্পন বড় ধরনের শক্তির সঞ্চয় নির্দেশ করে, যা ভবিষ্যতে রিখটার স্কেলে উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভৌগোলিক ঝুঁকির কারণে ঢাকা ও সিলেটের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে ভবন নির্মাণ বিধিমালা (ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড) কঠোরভাবে মেনে চলা জরুরি। অন্যথায় মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার কোনো ভূমিকম্প হলে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এই অঞ্চলে নিয়মিত মহড়া পরিচালনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা।


