জাতীয় ডেস্ক
কুয়ালালামপুর, ২২ জুন: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি পরিবর্তন করে দেশে সহনশীলতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত দিনে নিজের পরিবারের প্রতি অন্যায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও ব্যক্তিগত আক্রোশ বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না।
রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় নিজের জীবনের একটি সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সে সময় একটি স্বনামধন্য হাসপাতালের কাছে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স চাওয়া হলেও রাজনৈতিক কারণে তা দেওয়া হয়নি।”
বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এবং দেশের জনগণের সমর্থনে এই মুহূর্তে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। আমি এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। আমি চাইলে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতাম, কিন্তু আমি তা করিনি।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি যদি এখন প্রতিশোধের রাজনীতি শুরু করি, তবে তাতে দেশের কোনো লাভ হবে না। জনগণেরও কোনো কল্যাণ আসবে না। আমরা এই প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক মানসিকতা বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বদলে দিতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ধরে চলমান রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতির বিপরীতে এই ঘোষণা একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। এটি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
মতবিনিময় সভায় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও শ্রমিক অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের দেশের উন্নয়নে আরও বেশি ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।


