অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়ম ঠেকাতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে (পি-টু-পি) টাকা পাঠানোর সুবিধা বন্ধ থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) আওতাধীন ইন্টারব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার (আইবিএফটি) ব্যবস্থায় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ থাকবে। এর ফলে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাপের মাধ্যমে পি-টু-পি লেনদেন করা যাবে না।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের সময় এমএফএস ও আইবিএফটি ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ অর্থপ্রবাহ, ভোট কেনাবেচা কিংবা আর্থিক প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতীতে নির্বাচনকালীন সময়ে দ্রুত ও সহজে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এবার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সীমা আরোপ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, এ সময় এমএফএস সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডারকে নিজস্ব কুইক রেসপন্স সেল গঠন করতে হবে। এসব সেলের মাধ্যমে গ্রাহক অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে এবং সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত ৯৬ ঘণ্টা সময়ে এমএফএস প্রোভাইডার ও ব্যাংকগুলো নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা প্রদান করবে। প্রয়োজনে লেনদেনের তথ্য যাচাই, হিসাব স্থগিত বা অন্যান্য আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং বর্তমানে দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ব্যক্তিগত অর্থ স্থানান্তর, ক্ষুদ্র ব্যবসার লেনদেন, পারিবারিক সহায়তা পাঠানোসহ নানা প্রয়োজনে এসব সেবা ব্যবহৃত হয়। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে বড় অঙ্কের বা অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সাময়িকভাবে পি-টু-পি লেনদেনে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়বেন। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত এমএফএস বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাঠান, তাঁদের বিকল্প উপায়ে লেনদেন সম্পন্ন করতে হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সাময়িক এবং নির্ধারিত সময় শেষে স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তারা মনে করেন, গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আগাম প্রচার ও বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও নির্বাচনকালীন সময়ে আর্থিক লেনদেন তদারকিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


