জাতীয় সংসদে স্লোগান দেওয়া রেওয়াজবহির্ভূত: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ

জাতীয় সংসদে স্লোগান দেওয়া রেওয়াজবহির্ভূত: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ

জাতীয় ডেস্ক

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় সংসদে ওয়াকআউট একটি প্রচলিত রাজনৈতিক রীতি হলেও সেখানে স্লোগান দেওয়া সংসদীয় শিষ্টাচারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই গণতান্ত্রিক রীতি মেনে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, সংসদে বিভিন্ন মত ও অবস্থান থাকলেও তা সংসদীয় বিধি-বিধান ও শৃঙ্খলার মধ্যেই উপস্থাপন করা উচিত।

স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা হিসেবে গণতান্ত্রিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। এখানে মতবিরোধ, বিতর্ক বা ওয়াকআউট রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে, তবে স্লোগান দেওয়ার মতো আচরণ সংসদের প্রচলিত রেওয়াজের বাইরে। সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা সকল সদস্যের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ পরিচালনায় তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি জানান, ক্রিকেট খেলায় যেমন একজন আম্পায়ার নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও তিনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করবেন। স্পিকার হিসেবে তার দায়িত্ব হবে সংসদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা এবং সংসদ সদস্যদের বক্তব্য ও কার্যক্রমকে বিধি-বিধানের মধ্যে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই অর্জনকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে সংসদ সদস্যদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সংসদের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য।

স্পিকার আরও বলেন, জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব। সংসদে আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা সংসদের অন্যতম দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা এবং সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্যরা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রশ্নে সকল পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সংসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণ, নিয়ম-নীতি মেনে চলা এবং গঠনমূলক বিতর্কে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। সংসদের মর্যাদা ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সকল সদস্যের সচেতনতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, স্বাধীনতার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শহীদদের ত্যাগের চেতনা ধারণ করে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে জাতীয় সংসদের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষই যদি দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেয়, তাহলে জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ