সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপার জামিন আদেশ পিছিয়ে ১১ মে ধার্য

সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপার জামিন আদেশ পিছিয়ে ১১ মে ধার্য

আইন আদালত ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত হত্যাসহ মোট সাতটি মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপার জামিন আবেদনের ওপর আদেশ পিছিয়ে আগামী ১১ মে দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। মামলার তদন্ত শেষ করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরোয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে সাত মামলায় জামিন সংক্রান্ত ১৩টি আবেদনের ওপর আদেশ দেওয়ার কথা ছিল। তবে শুনানির শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকার কথা উল্লেখ করে সময়ের আবেদন করলে আদেশটি পিছিয়ে যায়।

আদালত শুনানির এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের সময় চাওয়ার বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। আদালত প্রশ্ন তোলেন, “এভাবে আর কতদিন সময় নেবেন আপনারা? অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে আসুন।” পরবর্তীতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান যে, তদন্ত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম গুছিয়ে নিতে কাজ করছেন এবং এ জন্য আরও সময় প্রয়োজন। এরপর আদালত ১১ মে পরবর্তী আদেশের দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতে জামিন আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আশিকুজ্জামান নজরুল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলামিন। এর আগে গত ২১ এপ্রিল এই সাত মামলায় দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারিত রেখেছিলেন।

পটভূমি ও মামলার বিবরণ: ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। গত ২১ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টাকালে সাংবাদিক শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে আটক করা হয়। পরদিন ২২ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানায় দায়েরকৃত ফজলুল করিম হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে রাজধানীর আদাবর থানায় দায়ের করা গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলায় গত ২৬ আগস্ট তাদের আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ৩১ আগস্ট তাদের কারাগারে পাঠানো হয় এবং তখন থেকেই তারা বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া সাতটি মামলার আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রাসঙ্গিকতা ও প্রভাব: জুলাই আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় দায়ীদের বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তার এবং মামলাগুলো দেশজুড়ে আলোচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিবাদী পক্ষ দাবি করছে এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা এবং তারা দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে বিনা বিচারে আটক রয়েছেন। উচ্চ আদালতের এই আদেশের ওপর নির্ভর করছে তাদের কারামুক্তি বা আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপ। তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার গতিশীলতা নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের বিচারিক সংস্কৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে। ১১ মে হাইকোর্টের আদেশের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে যে, এই সাংবাদিক দম্পতি তদন্তাধীন থাকাবস্থায় জামিন পাবেন নাকি তাদের কারাবাস দীর্ঘায়িত হবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ