আইন ও বিচার ডেস্ক
রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি আরও জানান, অবশিষ্ট হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী এই তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদীয় অধিবেশনে মন্ত্রী বর্তমান সরকারের এই আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাধারণত মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না। এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা এবং এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের পক্ষে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জটিল।
তবে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে প্রাপ্ত তথ্যের একটি খতিয়ান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সরবরাহকৃত তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিগত সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নামে দায়ের হওয়া মামলার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বর্তমানে সরকারের কাছে নেই।
হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৫ মার্চ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলাগুলো চিহ্নিত ও প্রত্যাহারের সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে গঠিত এই ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি মূলত আবেদনপত্র, এজাহার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) সার্টিফাইড কপি ও পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে। যদি কমিটি মনে করে যে, কোনো মামলা কেবলমাত্র রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে কিংবা জনস্বার্থে বা রাষ্ট্রের বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য সেটি চালানোর প্রয়োজন নেই, তবেই তা প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করা হয়।
জেলা কমিটির সুপারিশগুলো চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য সরকার গত ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের ‘কেন্দ্রীয় কমিটি’ গঠন করেছে। এই কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পর্যায়ক্রমে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে বিচার বিভাগে দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং রাজনৈতিক নিপীড়নমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে দেখছে সরকার।
আইনমন্ত্রী পুনরুল্লেখ করেন যে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অপসংস্কৃতি রোধে সরকার বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই আইনগতভাবে প্রতিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে অবশিষ্ট মামলাগুলো নিষ্পত্তির কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার ফলে নিরপরাধ রাজনৈতিক কর্মীদের দীর্ঘদিনের আইনি হয়রানি থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ সুগম হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা।


