বাংলাদেশ-ইইউ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও বহুমাত্রিক সহযোগিতা প্রসারে আলোচনা

বাংলাদেশ-ইইউ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও বহুমাত্রিক সহযোগিতা প্রসারে আলোচনা

কূটনীতি ডেস্ক

ঢাকা: বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও কার্যকর করতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এরিক কুর্জওয়েল এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করে এবং আগামী দিনগুলোতে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব। উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও সুসংহত এবং সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও কারিগরি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণের ওপর তিনি জোর দেন। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

ইইউ প্রতিনিধি এরিক কুর্জওয়েল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বছরগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

উভয় পক্ষের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো স্থান পায়। উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা এবং তাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন কামনা করেন। জবাবে ইইউ প্রতিনিধিরা জানান, তারা এই মানবিক সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক জনমত গঠন এবং সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইইএএস-এর শীর্ষ কর্মকর্তার এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল রুটিন মাফিক কোনো সফর নয়, বরং পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি প্রয়াস। বিশেষ করে জিএসপি প্লাস (GSP+) সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং মানদণ্ড পূরণে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ত্বরান্বিত করতে পারে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে, ভবিষ্যতে নিয়মিত সংলাপ এবং উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করা হবে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য-প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল কানেক্টিভিটির মতো উদীয়মান খাতগুলোতে যৌথভাবে কাজ করার নতুন সম্ভাবনাগুলো যাচাই করে দেখা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের এই নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ কেবল দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সুফলই আনবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজকের এই সৌজন্য সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও ব্রাসেলসের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ