প্রধানমন্ত্রী ও সম্পাদক পরিষদের বৈঠক: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী ও সম্পাদক পরিষদের বৈঠক: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে আলোচনা

জাতীয় ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন দেশের জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের শীর্ষ সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’-এর নেতৃবৃন্দ। আজ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি, তথ্য উপদেষ্টা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দেশের বর্তমান গণমাধ্যম পরিস্থিতি, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাদারিত্বের উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রের সার্বিক নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার পাশাপাশি মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে এই বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে সরকারি পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অন্যদিকে সম্পাদক পরিষদের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি ও নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবির এবং সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ।

এছাড়াও দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্রের সম্পাদকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ এবং দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক।

আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সম্মানার্থে একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। এই অনানুষ্ঠানিক পর্বে প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সাথে সরাসরি কুশল বিনিময় করেন এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা এবং তথ্য প্রবাহ সচল রাখতে এই ধরণের সংলাপ অত্যন্ত জরুরি। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সংবাদপত্র সম্পাদকদের সাথে এই আনুষ্ঠানিক বৈঠক দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চাকে উৎসাহিত করবে এবং তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। একই সাথে, সরকারি নীতি বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের যৌক্তিক মতামত ও পর্যবেক্ষণ গুরুত্ব পাওয়ার পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ