অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের চামড়া শিল্পখাতের সার্বিক উন্নয়নে স্বল্প ও দীর্ঘ—উভয় মেয়াদি কার্যকর কর্মপন্থা ও করণীয় নির্ধারণ করেছে সরকার। এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতাসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘চামড়া শিল্পখাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স’-এর নবম সভায় এই সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
টাস্কফোর্সের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ টাস্কফোর্সের অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।
চামড়া খাতকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক আয়ের উৎসে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সভায় জানানো হয়, বর্তমান সরকার এই খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত পশুর চামড়ার অপচয় রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের সময় পশুর চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানো, প্রাথমিক সংরক্ষণ এবং পরিবেশসম্মত উপায়ে ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে চামড়ার ন্যায্যমূল্য পায়, সে বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং লাভজনক করতে হলে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আধুনিকায়ন করা জরুরি বলে সভায় একমত পোষণ করা হয়। বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স বা মানদণ্ড নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যা দেশীয় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।
অর্থনৈতিক সংকট ও কাঁচামাল আমদানির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ট্যানারি মালিক ও চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক প্রণোদনার বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) আবেদনের প্রেক্ষিতে, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য দ্রুত ঋণ ছাড়ের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়।
এর পাশাপাশি, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে শিল্পোৎপাদন সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পনগরী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়েও সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই খাতটি ঘুরে দাঁড়াবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


