দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত: কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত: কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

কৃষি ও অর্থনীতি ডেস্ক

দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কোনো অবস্থাতেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, সার মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রবিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা মডেল পাইলট সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বোদা উপজেলায় কৃষি ঋণ মওকুফ সনদপত্র বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন কৃষিকাজ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। তাই কৃষকের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড সরকার বরদাস্ত করবে না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্মীয় মতাদর্শ নির্বিশেষে সারের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি কারসাজির মাধ্যমে সারের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বোদা উপজেলার ৫ হাজার ৮৯০ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা কৃষি ঋণ মওকুফের সনদপত্র বিতরণ করা হয়। ঋণ মওকুফের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে প্রত্যেকের মাঝে পাঁচটি করে ফলজ ও বনজ গাছের চারাও বিতরণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় মোট ২৯ হাজার ৪৫০টি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কৃষকদের সহায়তা প্রদান করা হয়।

সরকার কৃষিনির্ভর এই অর্থনীতিকে টেকসই করতে বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা এবং সার সরবরাহের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক চাষিদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষিকে লাভজনক পেশায় রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার আবু সাইম, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহেমদ রাশেদ উন নবী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যাংক প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সারের মজুত নিয়ে সরকারের এই দৃঢ় অবস্থান এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা মাঠপর্যায়ে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। বিশেষ করে সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এই হুঁশিয়ারি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং আসন্ন মৌসুমে কৃষি আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ