কক্সবাজারের পেকুয়ায় সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণ শুরু, ৯টি উচ্ছেদ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণ শুরু, ৯টি উচ্ছেদ

সারাদেশ ডেস্ক

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে সরকারি খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ। অভিযানের প্রথম দিনে খালের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত ৯টি কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড় ১০টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মটকাভাঙা এলাকায় এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

স্থানীয় অধিবাসীদের তথ্য মতে, মগনামা ইউনিয়নের সরকারি খালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অন্তত ৫৮টি অবৈধ কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে রেখেছিলেন। এছাড়া খালের সংযোগস্থলে থাকা স্লুইসগেটগুলোতে আড়াআড়িভাবে জাল বসিয়ে অবাধ পানি চলাচলে তীব্র প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। খালের স্বাভাবিক নিষ্কাশন পথ রুদ্ধ হওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকাটিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে কৃত্রিম বন্যায় রূপ নেয়। এর ফলে পুরো ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

সম্প্রতি অতিবর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় এই অবরুদ্ধ পানি প্রবাহের কারণে মগনামার জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। জলাবদ্ধতার স্থায়ী প্রভাবে এলাকার কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পানি বের হতে না পেরে স্থানীয় প্রায় ৩০টি বড় মৎস্যঘেরের মাছ ভেসে গেছে এবং শত শত একর কৃষিজমির উঠতি ফসল পানির নিচে তলিয়ে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া বহু বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও পুকুর দীর্ঘদিন জলমগ্ন থাকায় জনস্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গত ১৮ জুলাই বন্যা-পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরিদর্শনের সময় সার্বিক জনদুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি দেখে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি খালের সমস্ত অবৈধ দখল, বাঁধ ও জাল অপসারণের জন্য উপজেলা প্রশাসন এবং মগনামা ইউনিয়ন পরিষদকে যৌথ সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন।

উচ্ছেদ কার্যক্রম চলাকালে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় এবং খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চিহ্নিত ৫৮টি অবৈধ কাঠামোর মধ্যে প্রথম ধাপে ৯টি বাঁধ সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ না ফেরা পর্যন্ত এবং তালিকাভুক্ত বাকি সব অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

অভিযান চলাকালে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম। এ সময় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় ইউপি সদস্যবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ