অপরাধ ডেস্ক
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের আওতায় থাকা বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল সংখ্যক অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরিচালিত পৃথক অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬২ জনকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধ করার নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তেজগাঁও বিভাগ এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই বিভাগের অধীনস্থ ছয়টি থানা এলাকায় একযোগে এবং সতর্কতার সঙ্গে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, বিভিন্ন মামলার এজাহারনামীয় সন্দেহভাজন এবং চলমান অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।
ডিএমপির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন থানা ভিত্তিক গ্রেপ্তারের একটি সুনির্দিষ্ট হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে সর্বোচ্চ মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পরপরই হাতিরঝিল থানা পুলিশ পরিচালনা করে অভিযান, যেখান থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে ১০ জন এবং তেজগাঁও থানা ও শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ৯ জন করে মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া আদাবর থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৭ জন।
ডিএমপি সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া সাধারণ অপরাধীদের পাশাপাশি আইনের সঙ্গে সংঘাত জড়িত এমন এক শিশুকেও পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ওই শিশুর ক্ষেত্রে শিশু আইনের প্রচলিত সকল বিধান এবং আইনগত সুরক্ষা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অভিযান প্রক্রিয়ার বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবহুল এলাকা হিসেবে এই বিভাগে জননিরাপত্তা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এই ধরনের এলাকাভিত্তিক বিশেষ ও ঝটিকা অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের বিষয়ে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় থাকা পূর্বের মামলা কিংবা নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্ব-স্ব থানায় হস্তান্তরের কাজ চলমান রয়েছে।


