সারাদেশ ডেস্ক
কৃষির আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিক বিপ্লবে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবিকা ও সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক কৃষিব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
গতকাল বুধবার রাতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আয়োজিত যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সনাতন ঐতিহ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা ধরে রাখতে হলে ধানের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বর্তমানে শিক্ষিত তরুণ ও যুবসমাজকে কৃষিমুখী করতে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কৃষির সার্বিক যান্ত্রিকীকরণে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
কৃষি প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের মতো আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে মাত্র ৪০ সেকেন্ডে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চার সারি চারা রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে। বিজ্ঞানসম্মত এই পদ্ধতি শ্রম ও সময় সাশ্রয় করার পাশাপাশি ধানের সার্বিক ফলন বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
দেশের কৃষি খাতের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম দেশে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো বা চাল আমদানি কমানো নয়; বরং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড কিংবা মালয়েশিয়ার মতো বিদেশে চাল রপ্তানি করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা।
কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা ও কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃত ভূমিহীন, হতদরিদ্র এবং প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার। যেকোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম রোধে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, সচ্ছল কোনো ব্যক্তি বা প্রভাবশালী কারো আত্মীয়স্বজনের নামে এসব সুবিধা বরাদ্দ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রি-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনিক প্রতিনিধি ও এলাকার বিপুল সংখ্যক কৃষক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে যান্ত্রিক উপায়ে ধানের চারা রোপণ প্রক্রিয়া প্রদর্শন করা হয় এবং চারা বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।


